Thursday, 15 September 2016

কাব্যিক বিচার



অনেক অনেকদিন আগের কথা ৷ একটি ছেলে ‘S’ একটি মেয়ে ‘A’-কে খুব ভালোবাসতো ৷ দু`জনেই সচ্ছল পরিবারের ৷ তবে অভিভাবকদের মধ্যে কোনও বনিবনা ছিল না ৷ ছেলে-মেয়ে দু`টি তখন সবে সাবালক-সাবালিকা হয়েছে ৷ এই অবস্থায় মেয়েটি তার বাবা-মাকে হারাল ৷ সে তখন গেল ছেলেটির বাড়ি ৷ আশ্রয়ের খোঁজে ৷ মেয়েটিকে দেখে ছেলেটির বাবা চিনতে পারলেন ৷ তিনি চেঁচিয়ে উঠলেন, “তুমি কেন এখানে এসেছ? আমার বাড়িতে তোমার জায়গা হবে না ৷ তোমার সাথে আমার ছেলে মেলামেশা করলে তাকে ত্যাজ্য পুত্র করে ছাড়ব ৷”

  ছেলেটি বাবার অমতে যেতে রাজি হল না ৷ ঘরের দরজা থেকেই মেয়েটিকে ফিরিয়ে দিল ৷ মেয়েটি ছেলেটির এক ঘনিষ্ঠ বন্ধু ‘H’-কে ধরল ৷ সেই বন্ধু প্রেমিকটির খুব সমালোচনা করল ৷ বলল, “আমার বন্ধুকে আমি চিনি ৷ সে এ`রকমই ৷ মেরুদণ্ড হীন৷ আমি বললেও কোনও কাজ হবে না ৷ তুমি এখন আসতে পার ৷”

 ‘L’ হচ্ছে ছেলেটির আরেক ঘনিষ্ঠ বন্ধু ৷ এবার মেয়েটি সেই বন্ধুর দ্বারস্থ হল ৷ সেই বন্ধুটিও প্রেমিকটির খুব সমালোচনা করল ৷ বলল, “আমার বন্ধু বরাবরই এধরনের ৷ আমি তাকে তোমার আগে থেকেই চিনি ৷ মনে হয় না সে আমার কথা শুনবে ৷ তবু চল, তার সাথে তোমার একবার মোলাকাত করিয়ে দিই ৷”

 সে ছেলেটিকে একটি রেস্টুরেন্টে ডেকে আনল ৷ প্রেমিক-প্রেমিকার মোলাকাত করিয়ে দিল ৷ কিন্তু ছেলেটি তার বাবার অমতে যেতে রাজি হল না ৷ ভালোবাসার ধনকে প্রত্যাখান করল ৷ তাকে বলল, ‘তুমি আমাকে ভুলে যাও ৷’

বন্ধুর সিদ্ধান্তে ‘L’ খুশি হল না ৷ তাদের দু`জনের মধ্যে বন্ধু-বিচ্ছেদের পরিস্থিতির সৃষ্টি হল ৷ সে মেয়েটিকে গাইড করল ৷ একজন উকিল ‘M’-কে নিয়োগ করল৷ পারিশ্রমিকের বিনিময়ে ৷ উকিল মেয়েটিকে নিজের পায়ে দাঁড়াতে সাহায্য করল ৷

ছোটবেলায় কার কাছে গল্পটি প্রথম শুনেছিলাম মনে নেই ৷ তবে এই গল্পটি শুনানোর পর একটি প্রশ্ন থাকত ৷ পাঁচটি চরিত্র ‘A’, ‘S’, ‘H’, ‘L’ এবং ‘M’-কে নিয়ে ৷ চারিত্রিক গুণাবলীর বিচারে কে সবচাইতে ভাল ? তারপর কে ? এভাবে সাজাতে হত ৷ সাধারণত কোনও দুই ব্যক্তির পছন্দ এক রকম হত না ৷ এই চরিত্রগুলো একটু হলেও অর্থবহ ৷ ‘A’ এখানে Aim বা লক্ষ্য ৷ তেমনি ‘S’ হচ্ছে Selfishness বা স্বার্থপরতা ৷ ‘H’ হচ্ছে Heart বা হৃদ্যতা ৷ ‘L’ হচ্ছে Love বা ভালোবাসা ৷ ‘M’ হচ্ছে Money বা মাল-কড়ি ৷ জীবনে দাঁড়াতে গেলে এই পাঁচটি গুণের কমবেশি প্রয়োজন হয় ৷ কিন্তু খুব অল্প সংখ্যক লোককেই দেখতাম ‘S’-কে তালিকার প্রথমে রাখতে ৷ যার সম্ভবত: সঙ্গত কারণ আছে ৷ জীবনে স্বার্থপরতার প্রয়োজন আছে ৷ সেটাই ঘুরিয়ে বললে পেশাদারিত্ব ৷  তবু এর মধ্যে কিন্তু থাকে ৷

পুলিশের চাকুরীতে যোগ দিয়ে আমি প্রথমে যাই নতুন বাজার থানায় ৷ প্রশিক্ষণার্থী হিসাবে ৷ একদিন থানার কনস্টেবল এবং অফিসারদের গল্পটি বলি ৷ তারপর সাদা কাগজে তাদের মতামত নিই ৷ এই চরিত্রগুলি সম্পর্কে ৷ আলাদা আলাদা ভাবে ৷ এর মধ্যে একটি কনস্টেবল ‘S’-কে তালিকার প্রথমে রেখেছিল ৷ কনস্টেবলদের মধ্যে সেই সবচেয়ে শিক্ষিত ৷ সে স্নাতক ৷ দেখতে একটু কালো ৷ সুঠাম স্বাস্থ্য ৷ সর্বক্ষণ বৌয়ের প্রশংসা করত ৷ ভালোবাসার বিয়ে ৷ বৌ কলেজে অনার্সের ছাত্রী ৷ কেন জানি মনে হয়েছিল কনস্টেবলটির মধ্যে একটা স্বার্থান্ধ রূপ বিরাজ করছে ৷

নতুন বাজার এলাকায় তখন চাকমা শরণার্থীদের ক্যাম্প ছিল ৷ শুক্রবারে করবুকে বাজার বসে ৷ দিন কয়েক পর এক শুক্রবারে করবুক বাজারে গিয়েছি ৷ সাথে থানার বড়বাবু৷ একজন ছোট দারোগা ৷ চারজন কনস্টেবল ৷ অতি শিক্ষিত কনস্টেবলটিও সেই দলে ৷ সাপ্তাহিক বাজার ৷ শরণার্থীদের উপস্থিতির কারণে খুব রমরমা ৷ করবুকের কাছেই পশ্চিম মাণিক্য-দেওয়ান গ্রাম ৷ সেখানে পাম্প-হাউস থেকে পাম্প চুরি গিয়েছিল ৷ বড়বাবু আর আমি গেলাম চুরির তদন্তে ৷ সাথে দুই কনস্টেবল ৷ গ্রামের প্রধান ৷ ছোট দারোগাবাবু ও অন্য দু`জন কনস্টেবল রইল বাজারে ৷ ঘুরে ঘুরে খবর সংগ্রহের জন্য ৷ সেই দলে স্নাতক ছেলেটি ৷ তদন্ত শেষ করে আমরা ফিরলাম ঘন্টা দু`য়েক পর ৷ ছোট দারোগাবাবু ও তার দল স্ট্যান্ডে আমাদের জন্য অপেক্ষা করছিল ৷ আমার কথিত কনস্টেবলটির এক হাতে ব্যাগ-ভর্তি বাজার ৷ অন্য হাতে একজোড়া বুনো খরগোস ৷ পিঠে বন্দুক ৷ খরগোসকে এভাবে ঝুলানো অবস্থায় আগে দেখিনি ৷ প্রাণীগুলির চোখগুলি বড় পুতির মত জ্বল জ্বল করছিল ৷ অন্য পুলিশ কর্মীরাও টুক-টাক বাজার করেছিল ৷ বাঁশ করুল, কলার মোচা, শামুক ইত্যাদি ৷ তাদের কারো হাতেই থলে ছিল না ৷ এই দৃশ্য দেখে বড়বাবু উষ্মা প্রকাশ করলেন, ‘ঐ-তো, সাইরা লাইছে ৷’

আমি বললাম, ‘কি ?’

তিনি কনস্টেবল ছেলেটির নাম নিয়ে বললেন, ‘হ্যাঁর সাংঘাতিক খাই ৷ একটু সুযোগ পাইছে, আর সাইরা লাইছে ৷ আওয়ার সময় দেখছি হাতে কিচ্ছু নাই ৷ গাড়ি-টারি থাইক্যা টাকা তুইল্যা, এই সপ্তাহের খোঁড়াক ম্যানেজ কইরা লাইছে ৷’

এরপর চাকুরী-সূত্রে বিভিন্ন জায়গায় বদলি হয়ে যাই ৷ আবার বছর ছয়েক পর  উদয়পুরে যাই ৷ অতিরিক্ত পুলিশ সুপার হিসাবে ৷ তখন কনস্টেবল থেকে হাবিলদারদের ছুটি-ছাটা আমি দেখি ৷ লম্বা ছুটি হলে সাক্ষাৎকার নিই ৷ এমনি একদিনের সাক্ষাৎকার চলছে ৷ রিজার্ভ অফিসার সেই স্নাতক কনস্টেবলটিকে আমার সামনে পেশ করলেন ৷ তার সেই জৌলুস নেই ৷ সে ভালো করে হাটতে পারছিল না ৷ গাড়ি দুর্ঘটনায় প্রায় পঙ্গু হয়ে গেছে ৷ আমি তার ছুটি মঞ্জুর করলাম ৷ একবার মনে হল তার বৌয়ের কথা জিজ্ঞাসা করি ৷ পর মুহূর্তেই সেই খরগোস দু`টির চোখগুলি আমার চোখের সামনে ভেসে উঠল ৷ ছ`বছর আগে চোখের ভাষা বুঝতে পারিনি ৷ এবার তাদের কবিতার ভাষা বুঝতে পারলাম ৷ একে বলে ‘কাব্যিক বিচার’ ৷


Monday, 12 September 2016

এই লভিনু সঙ্গ তব...



এবারের জুলাই মাসের ঘটনা ৷ আমার ছেলে নীল ৷ রাজ্যের বাইরে একটি কারিগরী কলেজের ছাত্র ৷ কম্পিউটার সায়েন্স ইজ্ঞিনিয়ারিং নিয়ে পড়ে ৷ গ্রীষ্মের ছুটিতে বাড়িতে এসেছে ৷ এবার তৃতীয় বর্ষে ৷ তার অ্যাসাইনম্যান্ট ছিল রুবিক কিউবের উপর ৷ প্রোগ্রামের মাধ্যমে মেলানো ৷ অ্যাসাইনম্যান্টটি শেষ করার পর সে খোশ মেজাজে ঘুরছিল ৷ এরমধ্যে একদিন অফিস থেকে ফেরার সময় গিন্নীর ফোন ৷ একটি শক্তপোক্ত দেখে রুবিক কিউব নিয়ে আসার জন্য ৷ নীলকে দিয়ে তার প্রোগ্রামটি হাতে-কলমে যাচাই করাবে ৷ অতি উত্তম প্রস্তাব ৷ আমিও সময় নষ্ট না করে অফিস থেকে বেরিয়ে পড়লাম ৷ গুরুজীর সামনে গাড়ি পার্ক করে রুবিক কিউবের সন্ধানে বেরুলাম ৷

ওরিয়েন্ট চৌমুহনীর পর থেকে বইখাতা এবং স্ট্যাশনারি সামগ্রীর প্রচুর দোকান ৷ প্রথম দিকের কয়েকটি দোকানে রুবিক কিউব পেলাম না ৷ এরপর একটি ছোট দোকানের মুখে দেখি খরিদ্দারের প্রচুর ভিড় ৷ উপরে দুইটি প্লাস্টিকের ঢাউস প্যাকেটে শোভা পাচ্ছে ছোট বড় আকারের রুবিক কিউব ৷ সমাপতনই বলতে হবে, কলেজ পড়ুয়া ছাত্রীকে এক দরদী পিতা রুবিক কিউব কিনে দিচ্ছিলেন ৷ ছোটগুলির দাম বিশ টাকা ৷ বড়গুলির দাম পঞ্চাশ টাকা ৷ ভদ্রলোক পঞ্চাশ টাকা দিয়ে একটি নিয়ে বেরিয়ে গেলেন ৷ আমিও বললাম পঞ্চাশ টাকা দামের একটি রুবিক কিউব দেওয়ার জন্য ৷ তখনও দোকানে দু`তিনজন অন্য ক্রেতা ছিল ৷ দোকানদার আমাকে রুবিক কিউব দিতে দেরি করছিল ৷ আমি কিছুটা অধৈর্য হয়ে বললাম, “কই? কি হল? আমাকে রুবিক কিউব দিচ্ছেন না যে?”

এবার দোকানদার তার চেয়ার ছেড়ে বেরিয়ে এল, “স্যার, আপনার নাম অরিন্দম নাথ না?”

- হ্যাঁ ৷

- আপনি কমলপুর টুয়েলভ স্কুলের টিচার ছিলেন না? এখন পুলিশে চাকুরী করেন ৷

- হ্যাঁ ৷

এবার সে আমাকে পা-ছুঁয়ে প্রণাম করে ৷ নিজে থেকেই পরিচয় দেয়, “আমার নাম রতন ৷ স্যার, আমি আপনার ছাত্র ছিলাম ৷”

রতন দেখতে বেটে-খাটো ৷ মাথায় টাক পড়েছে ৷ আমি ছাত্রাবস্থায় তার চেহারা ঠিক ঠাহর করতে পাড়ছিলাম না ৷ তাই আমি রতনের কাছে জনতে চাইলাম যে সে কোন বছর বোর্ডের পরীক্ষা দিয়েছিল এবং তার সহপাঠী কারা ছিল ৷ রতনের উত্তরে তার ছাত্রাবস্থার চেহারা কল্পনা করা অসুবিধা হল না ৷ রতন বলল, “স্যার এই রুবিক কিউব গুলি চাইনীজ প্রোডাক্ট ৷ টেকসই হবে না ৷ আমার আরেকটি দোকান আছে ৷ সেখানে গ্যারান্টিযুক্ত ভালো রুবিক কিউব আছে ৷”

এই কথা বলে দুই তিনটি দোকান পরে একটি দোকানে নিয়ে গেল ৷ দোকানটি আকরে বড় ৷ রতনের বৌ ক্যাশ-বাক্স সামলাচ্ছিল ৷ একজন কর্মচারী ৷ ভদ্রমহিলা দেখতে কালো ৷ চেহারাতেও সত্যিকার অর্থে তীক্ষ্ণতা নেই ৷ কিন্তু রতন পরিচয় করিয়ে দেওয়ার পর দু`একটি কথা যা বললেন তা থেকে তাঁর পতি আমার মুগ্ধতা বেড়ে গেল ৷ তাঁকে শ্রীময়ী মনে হল ৷ তাঁর অন্তরের সৌন্দর্য প্রকাশ পেল ৷ একশ ত্রিশ টাকা দিয়ে রুবিক কিউব কিনলাম ৷ সাথে মনে এক প্রশান্তি এল ৷ ‘এই লভিনু সঙ্গ তব, সুন্দর হে সুন্দর!’

এই প্রশংসার পেছনে একটি ইতিহাস আছে ৷ আমি যখন শিক্ষকতা করি কমলপুর সহ সমগ্র ধলাই জেলার একটি বিশাল অংশ ছিল অবিভক্ত উত্তর জেলর অংশ ৷ ছোটবেলা থেকেই আমরা ভারতীয়রা বিভিন্ন কুসংস্কারে ভোগী ৷ আমাদের উত্তর জেলাতেও এমনি কিছু সংস্কার এবং প্রবাদ বাক্য চালু ছিল ৷ ‘আগে গেলে বাঘে খায়, পরে গেলে টাকা পায়’ ৷ এই বাক্যটি হয়তো ‘Fools rush in where angels fear to tread’ এর স্থানীয় রূপ ৷ তাই এর পেছনে হয়তো যুক্তি আছে ৷ কিন্তু কিছু ছিল একদম যুক্তি বিহীন ৷ মাথার চুলে দুটো কুণ্ডলী থাকলে দুই বিয়ে হবে ৷ চিবুকে তিল থাকলে পুরুষ বা মহিলাটি প্রেম দিবানা হবে ৷ পেটে তিল থাকলে পেটুক হবে ৷ হাত চুলকালে টাকা আসবে ৷ পা চুলকালে ভ্রমণ-যোগ ৷ ছোটবেলা থেকেই আমরা কমবেশি হস্তরেখা-বিদ ৷ জীবন রেখা, মস্তিষ্ক রেখা, হৃদয় রেখা সবই চিনি ৷

তখন রতন ক্লাস টেনে পড়ে ৷ আমার কাছে প্রাইভেটে অংক পড়ত ৷ সাথে আরও কয়েকটি ছেলে ৷ তখন জ্যামিতির উপপাদ্য পড়াচ্ছিলাম ৷ অর্ধ-বৃত্তের অন্তর্গত কোণ সমকোণ হয় ৷ সমকোণী ত্রিভুজের অতিভুজের বর্গ, সমকোণ-সংলগ্ন দুই বাহুর বর্গের যোগফলের সমান ৷ একদিন ছেলেরা আমার জন্য পড়ার টেবিলে অপেক্ষা করছিল ৷ আমি ঘরে ঢুকতেই দেখলাম রতনকে সবাই উপুড় হয়ে ঘিরে আছে ৷ তার দু`টি হাতের তালু পাশাপাশি অবস্থায় টেবিলের উপর পাতা ৷ এত নিবিষ্ট হয়ে কি দেখছিল জিজ্ঞেস করায় প্রথমে সঙ্কোচ বোধ করল ৷ আমি ছেলেদের সাথে বন্ধুর মত মিশতাম ৷ একটি ছেলে সঙ্কোচ ঝেড়ে ব্যাখ্যা দিল ৷ হৃদয় রেখা আমাদের কড়ে আঙ্গুলের নীচ থেকে শুরু হয়ে তর্জনীর নীচের দিকে এগিয়ে যায় ৷ প্রতিটি ব্যক্তির দুই হাতের হৃদয় রেখা পাশাপাশি মেলালে বৃত্তের একটি জ্যার আকার ধারণ করে ৷ ছেলেরা বাড়িঘরে এক বিচিত্র কথা শুনেছে ৷ এই জ্যা অর্ধ-বৃত্তের যার ক্ষেত্রে যত কাছাকাছি আসবে তার বৌ তত সুন্দরী হবে ৷ সেদিন রতনরা পাঁচজন ছিল ৷ এর মধ্যে রতনের দুই হাতের হৃদয় রেখার সৃষ্ট জ্যা ছিল প্রায় অর্ধবৃত্ত ৷ কিংবা অর্ধ-চন্দ্রাকৃতি ৷

রতনের বাকি চার বন্ধুই আজ প্রতিষ্ঠিত ৷ প্রকৌশলী, প্রশাসক, শিক্ষক এবং সমাজ সেবকের ভূমিকায় ৷ সবাই যথেষ্ট নামডাক করেছে ৷ তাদের বৌদেরও আমি দেখেছি ৷ সবাই যথেষ্ট চৌকস ৷ বাহ্যিক সৌন্দর্যে রতনের বৌ থেকে এগিয়ে ৷ তবু, আমার মন বলছে সেদিনের সেই ভবিষ্যৎ বাণীই ঠিক ৷ সৌন্দর্যের মাপকাঠিতে রতনের বৌ সেরা ৷


অ্যালজেব্রা



আমি তখন ধলাই জেলার এস. পি. ৷ থাকি পুলিশ সুপারে সরকারী আবাসনে ৷ পরিবার সহ ৷ আমার বাংলোয় একটি ছেলে রান্না-বান্না করত ৷ ছেলেটির কৌতুকপ্রিয়তা ছিল টন-টনাটন ৷ রোজ সকালে আমার স্ত্রীকে বলত, ‘ম্যাডাম, আজকে কি অ্যালজেব্রা রান্না কইরা লামু ?’

ম্যাডাম হেসে তাকে সম্মতি দিতেন ৷ তার অ্যালজেব্রা হচ্ছে মিশ্র-সবজির তরকারী৷ এর মধ্যে থাকতো আলু,লাউ,গবি বা বাঁধাকপি, বেগুন বা এগ-প্ল্যান্ট, কলা বা বেনানা এবং বিভিন্ন ধরনর রুটস্ ৷ এর সবগুলি যে প্রতিদিন থাকত তেমন নয় ৷ অ্যালজেব্রাতে এক্স (x) যে-কোন মানই নিতে পারে ৷

অ্যালজেব্রা কে আবিষ্কার করেছিলেন এই প্রশ্নের উত্তর দেবার আগে আরেকটি প্রশ্ন করব ৷ মানব সভ্যতার প্রথম আই.সি.এস. অফিসার কে ছিলেন ? এই প্রশ্নের উত্তর লুকিয়ে আছে এই ধাঁধাঁটিতে, ‘হি স্যাটস্ বি-টুইন টু ম্যাটস্ উইথ অ্যা স্যরনেইম আই.সি.এস. ৷ হু ইজ হি ?’

এই আই.সি.এস. উপাধি ধারি ব্যক্তটি আসলে অংক(MAT-HE-MAT + ICS) ৷ কারণ অংকের বানানে তিনি(HE) দুইটি ম্যাট(MAT)-এর মধ্যে বসেন৷ শেষে থাকে তাঁর আই.সি.এস.(ICS) উপাধি ৷ এক জন চতুর X-pert অ্যালজেব্রার আবিষ্কারক বলে কথিত আছে ৷ তিনি ভীষণ বানান ভুল করতেন ৷ এই থেকে তাঁর মাথায় এই চিন্তা আসে ৷ তাই অ্যালজেব্রার X রাশি কিংবা তার পরিবর্তে যেসব অক্ষর আমরা ব্যবহার করি তার মধ্যে কোন গ্রামার থাকে না ৷ প্রায়শই ভাওয়েলের বালাই থাকে না ৷ আবার অনেকে বলে অ্যালজেব্রা নাকি অ্যালজিয়ার্সের লোকের ভাষা ৷ একবার প্রেসিড্যান্ট বুশ নাকি অ্যালজিয়ার্সে গিয়ে প্রচণ্ড সমস্যায় পড়েছিলেন ৷ কারণ তিনি অ্যালজেব্রায় খুব কাঁচা ছিলেন ৷ পৃথিবীতে সবচাইতে অসুখী কিতাব হচ্ছে অ্যালজেব্রা বই ৷ কারণ এতে শুধুই প্রব্লেম৷ রোমানরা অ্যালজেব্রায় খুব ভালো ৷ কারণ X তাদের কাছে সব সময়ই পারফেক্ট টেন ৷

আমি ধর্মনগর বীর বিক্রম স্কুলের ছাত্র ৷ আমাদের অ্যালজেব্রায় হাতেখড়ি অনুকুলচন্দ্র শর্মা নামে এক স্যারের হাত ধরে ৷ জানিনা স্যার এখনো জীবিত আছেন কি না ? তাঁর ক্লাস আমাদের খুব পছন্দের ছিল ৷ চটপট কোন অ্যালজেব্রার কঠিন প্রব্লেম সলভ্ করে ফেলতে পারলে ব্ল্যাকবোর্ডে গিয়ে ক্লাসের বাকি সবার সামনে করে দেখানোর সুযোগ মিলত ৷ এনিয়ে রেষারেষি হত ৷ অনেক সময় কোন কোন অ্যালজেব্রার প্রব্লেমের উত্তরপত্রে ভুল থাকত ৷ কয়েকবার করার পর আমরা যখন দুঃখী বইটির উত্তরপত্রের উপর সন্দেহ প্রকাশ করতাম তখন তিনি বলতেন, ‘বলিস কি রে?’

ক্লাসে শুধু এই একটি বাক্যই তিনি শুদ্ধ বাংলায় বলতেন ৷ এই উত্তরটি যে ভুল, তিনি আগে থেকেই জানতেন ৷ শুধুমাত্র ছেলেদের আত্মবিশ্বাস বাড়ানোর জন্য বারবার করতে দিতেন ৷ তাঁর এই প্রচেষ্টা কাজে এসেছিল ৷ আমাদের ক্লাসের প্রায় প্রত্যেকটি ছেলেই অংকে ভালো ছিলাম ৷ উপরের শ্রেণীতে উঠে তাঁর চেয়ে আরো শিক্ষিত শিক্ষকেরাও অংক করতে গিয়ে ঘটনাচক্রে ভুল করলে চ্যালেঞ্জ করতে পিছপা হতাম না৷ আরেকটি কারণে স্যার আমাদের কাছে প্রিয় ছিলেন ৷ তিনি আমাদের কর্ম-শিক্ষার ক্লাসও নিতেন ৷ আমাদের ছিল কার্পেন্ট্রি ৷ কাঠ দিয়ে বিভিন্ন ধরনের খেলনা বানানো ৷ একবার ছ`জনের একটি গ্রুপ মিলে ‘হংস নৌকা’ বানিয়েছিলাম ৷ সেখানে শুধু মজাই মজা ৷

আমাদের ছিল শুধুই ছেলেদের স্কুল ৷ মেয়েদের স্কুল ঠিক আমাদের উল্টো দিকে ৷ তাদের সম্পর্কেও স্বাভাবিক উৎসাহ ছিল ৷ অর্থই অনর্থের মূল ৷ এর পাশাপাশি মেয়েরাও যে অনর্থের মূল তা প্রমাণে ছেলেরা ব্যস্ত থাকতাম ৷ আর অ্যালজেব্রার মাধ্যমে প্রমাণ করতাম মেয়েরাই অনর্থের মূল ৷ আমি এই অংকে যাব না ৷ জগতে অর্ধেক আকাশ নারীর ৷ আর অর্ধেক পুরুষের ৷ আর সবার জীবন সুখে দুঃখে ভরা৷ অ্যালজেব্রার মাধ্যমে বিষয়টি নিম্নরূপে প্রমাণ করা যায় ৷

জীবন + প্রেম = সুখ
আবার, জীবন – প্রেম = দুঃখ
যোগ করে, ২ (জীবন) = সুখ + দুঃখ
অর্থাৎ, জীবন = (সুখ + দুঃখ)/ ২
সুতরাং, জীবন = ১/২( সুখ) + ১/২(দুঃখ) ৷

সবশেষে আমার এক প্রিয় কবি বিনয় মজুমদারের কবিতা ‘একটি গান’-এর স্মরণ নিলাম :
“X=0
এবং Y=0
বা, X=0=Y
বা, X=Y
শূন্য 0 থেকে প্রানী X ও Y সৃষ্টি হলো
এই ভাবে বিশ্ব সৃষ্টি শুরু হয়েছিলো ৷”


CAPITALISM AND ANEMIA



It’s about six years Somnath Majumder has retired on superannuation. Starting his career as Lower Division Clerk he could earn berth to the post of Accounts Officer. In his heydays he was an iconic trade union leader and delivered many electrifying speeches. It’s needless to mention that his speeches had not only cast a great influence upon his followers but also earned praise of his seniors in the association. One such admirer is eminent leader Sadananda Bairagi. He was instrumental behind the joining of Somnath Majumder in trade union activities. Mr. Majumder still treats him as his friend, philosopher and guide. But there is always a hierarchy of echelon in every sphere. He turns timid at the sight of his wife Kamalika. She is younger to him both in terms of age and position in the job. In fact, she was a Lower Division Clerk in the same office when she married Head Clerk Somnath Majumder. The ambience in the house was quite different especially when the couple became the proud parents of their son Sidhartha. They believe in family planning and so didn’t opt for another issue. Rather, Somnath Majumder took the entire responsibility of bringing up his son. At that period he didn’t mind remaining a bit wayward at his workplace. He used to take utmost care that Sidhartha didn’t miss his tutorials and coaching classes. But he didn’t give any scope for his trade union colleagues to raise question. He was regular in attending meetings of his association. Somnath Majumder received reciprocal gesture from his colleagues and bosses. He retired on superannuation from the headquarters at Agartala without facing a single transfer in his life.

His hard work behind his son has paved dividend. After completing academic degrees like B.Tech, M.Tech, MBA and other professional courses Sidhartha is now the Deputy CEO of an American Multinational company. He is posted at its headquarters at Kolkata. Sidhartha is extremely sincere towards his profession and at times he poses crazy. It has earned reputation for him in the company but very seldom he takes care of his health. This made his parents worried. In the meantime his mother Kamalika Debi has taken voluntary retirement. So they decided to select a suitable match for their son Sidhartha after taking into consideration factors like beauty, education, horoscope, caste, family background and so on. They are now in the higher echelon of the society. Finally they got the girl of their choice.
Charming girl Kamalini is the only daughter of her parents. She is an M.Sc. in Chemistry. Her parents were elated to get such a promising boy as bridegroom. They spent lavishly in the marriage and gifted lots of article for the comfort of their daughter. After the nuptial, Sidhartha took his wife Kamalini to Kolkata. His Company has provided him avenues for comforts luxurious flat, attendants, car and other facilities at Kolkata. So, baring the ornaments the newlywed couple left all the articles at Agartala. 

This way the year turned around but things didn’t improve. Rather, Somnathbabu’s family gripped into a deep crisis which was detected by their daughter-in-law Kamalini. As an effort for improving his health Sidhartha was wearing rings studded with Coral, Gomed, Blue Sapphire and other precious gemstones. These were given by his mother in consultation with an astrologer of her confidence. Kamalini realized that the rings became loose in her husband’s fingers. Initially she repaired these with the help of goldsmith but it didn’t yield result. Even the rings of smaller sizes started coming out one after another within few days. She could make out that her husband was shrinking both vertically and laterally. Her knowledge of titration with burettes and pipettes came for her immense help as she calculated the extent of contraction, on the average one millimeter each month. The reduction is proportionate all around the body.

On getting this information Somnathbabu and his wife rushed to Kolkata by the next flight. Going there, they noticed despite such critical illness Sidhartha didn’t miss attending his office even for a single day. The concern of wife and parents of the boss over his health was appreciated by the officials in Sidhartha’s company. They arranged charter flight for him from Kolkata to Delhi for treatment in AIIMS. The concerned authorities of the premier healthcare institute of our country gave utmost importance for his treatment. They constituted a medical board for monitoring his treatment. But it failed to yield any positive result. Meanwhile, the Hon’ble President of America also came to know about the illness of the Deputy CEO of their Multinational concern. This made him perturbed. From AIIMS he was taken to the Massachusetts General Hospital for treatment, again by a charter flight. At first, the physicians of the American hospital failed to trace any disease in Sidhartha’s body. But, finally they detected a peculiar ailment. It’s a rare genetic disorder. Sidhartha came of a Leftist family background. His parents believe in Marxism and he was accustomed to this culture from his childhood. As a result, his genes were tuned to the Marxist ideology. In contrast, at his workplace it’s the height of Capitalism. We know like charges repel and opposite charges attract. The ambience in an American Multinational company where Sidhartha works is full of cosmic charges of Capitalist origin. These Capitalist charges get attracted towards the Marxist gens in his body thereby putting immense pressure upon him and the resulted shrinkage. Here, one may put forward a question, “Why don’t we witness the reverse?”

The medical officers of Massachusetts General Hospital also gave its clarification. India is a Sovereign Socialist Secular Democratic Republic. According to them in the Socialist Democratic atmosphere the cosmic rays with Capitalist origin are faint and so there is very little chance that Sidhartha will swell. The only remedy for him at the moment is that he should always think of Capitalism. The authorities have assured him giving posting in a Capitalist heaven once he earns his next promotion. This will ease out his problem. 

Getting this positive assurance, Sidhartha returned to his place of posting in Kolkata and started working with more enthusiasm. One morning, his father went to Sidhartha’s office. The retired gentleman had to toil hard to convince the receptionist and other staff that he is the father of their boss. Finally, after about two hours he could reach the doorstep of a big conference hall fitted with glasses on all sides. Sidhartha was busy in a video conference with all of their branches in India. At first he could not see his son but when he waved his hands towards him he could recognize. Sidhartha appeared anemic and like a Liliput to his father from the other side of the glass wall. Perhaps, glasses act like concave mirror. 

Coming out of his son’s office Somnath Majumder went to the house of Sadananda Bairagi. After retirement his guru stays in Kolkata. He narrated him Sidhartha’s ailment. Mr. Bairagi explained him the threat posed the Capitalism for almost two hours. His verbative didn’t miss issues like the fall of USSR, the unification of two Germans, the development in Afghanistan and Middle-East and so on. But, it didn’t touch upon Sidhartha’s health issue even for single moment. When he came out of Sadananda’s house it was around five in the evening. In between, he took his lunch in a roadside restaurant. After a long long period he was feeling well like returning from his office. At one place, he found a man was selling Kalmi Shak. He purchased a big bundle of this leafy vegetable. When he returned home, his daughter-in-law Kamalini said, “Baba, what are these leaves?” 

- These are Kalmi Shak... Ipomoea aquatic. It enhances the stock of both blood and Vitamin in our body.


Monday, 27 June 2016

JUVENILE DELINQUENCY



Introduction: One of our Group-D staff is very active and laborious. Very seldom do we get such an employee from among the persons posted under Die-in-harness scheme. He is a tribal boy from Champaknagar area and still possesses an unblemished simplicity. It’s an incident of last year. He had produced some vegetables in his garden. Especially the production of bitter gourd was noteworthy.  He could even sell the excess vegetables in the market and earn something extra. One day he realized that somebody was stealing his vegetables. So, he made some inquiry by interacting with the local people and in the process suspected a teenage neighbour behind the theft. He visited the boy’s house and noticed a store of bitter gourd similar to the product of his field. My colleague raised the issue of theft of bitter gourd from his garden before the father of the boy.  The man didn’t admit rather he replied that he had purchased the vegetable from market. However, the theft of bitter gourd from the garden of my staff didn’t recur. Perhaps, the neighbour had told the truth. But, still there is a chance that he protected his child from the charge of theft.      

In our country, the birth of a baby is treated as a boon of God and the joy knows no bound when the first child is a son. The boy gets extra care and affection from family members including his neighbours. In course of this extra pampering, guardians often forget to punish their offspring when they commit an offence in their boyhood. Many a time we find such parents to lament afterwards, ‘Alas! We hadn’t punished him in childhood lest he got hurt! Now, we dare to touch him lest he pulls our ears!’

What I have described above is perhaps the first step of Juvenile delinquents’ life. The word Juvenile delinquent is defined as a young person who habitually breaks the law, especially somebody repeatedly charged with vandalism or anti social behaviour. Thus, those offence committed by adult and punishable which when committed by children between the age group of 7 to 18 are denoted as Juvenile crimes. Recently, the upper age limit has been brought down to 16 years for heinous cases like murder, rape, dacoity, etc. through an amendment of the relevant Act.    
               
Statistics : The Crime in India statistics for the year 2015 is yet to come up. Given below are some tables as per the latest statistics published by the Bureau of Police Research and Development (BPR&D) in 2015  for the year 2014 in respect of Juvenile delinquents in India :
Table-I
JUVENILES’ DELINQUENCY OVER THE YEARS
Year

Cases of Juveniles’ Delinquency
Total Cognizable Crimes
Percentage Of Total Cognizable Crimes
Ratio per one lakh population
2010
22740
2224931
1.0
1.9
2011
25125
2325575
1.1
2.1
2012
27936
2387188
1.2
2.3
2013
31725
2647722
1.2
2.6
2014
33526
2851563
1.2
2.7

Table-II
JUVENILE DELINQUENCY IN TERMS OF CRIME HEADS
SL.No.

Crime Head
2010
2011
2012
2013
2014
1
Murder
679
888
990
1007
841
2
Attempt to commit murder
543
642
580
825
728
3
Rape
858
1149
1175
1884
1989
4
Kidnapping & Abduction
524
760
789
1121
1455
5
Dacoity
97
134
174
160
182
6
Robbery
551
639
767
904
1024
7
Theft
4930
5320
5528
6386
6717
8
Outrage of Modesty
546
573
613
1424
1591
9
Others
14012
15024
17320
18014
18999
10
Total
22740
25125
27936
31725
33526

         Table-III
JUVENILE DELINQUENCY IN THE NORTH-EAST IN 2014
States
Arunachal Pradesh
Assam
Manipur
Meghalaya
Mizoram
Nagaland
Sikkim
Tripura
Total Incidents
77
466
20
120
44
09
19
64




The above statistics has covered only the cognizable cases registered in our country. It indicates a constantly increasing trend. However, in respect to contribution towards the total cognizable crimes in our country, the Juvenile delinquency maintains a constant figure of 1.2% in last three years. In the 33526 cases registered during 2014, a total of 48230 Juveniles were apprehended. Out of them 36138 had crossed 16 years but below 18 years of age. It comprises 34941 boys and 1197 girls. Number of Juveniles apprehended above 12 years and up to 16 years were 11220, comprising 10906 males and 314 females. Persons detained below 12 years of age were 872, comprising 791 boys and 81 girls. In terms of their education, ৷ 10530 were illiterates. Out of the rest, 15004 have studied up to Primary level, 17637 up to Madhyamik level and the rest 5059 up to Higher Secondary and above. Interestingly, 38693 had their parents and 7905 had their guardians to take care of them. Remaining 1632 were home-less. In Tripura, a total of 78 persons were apprehended in 64 cases in 2014. Out of them, 30 have studied up Primary level while 26 up to Madhyamik level and the rest 22 are illiterates.

        Reasons: Before I try to find the reasons behind the rise of Juvenile delinquency, I like to point out an incident of gang-rape of a twelve years old girl in Guwahati by five persons witnessed in the recent past. All the five accused persons were Juveniles. In the Nirbhaya case in Delhi, one of the principal accused was again juvenile and this in fact, moved the nation to amend the laws in this regard. This is just the tip of the ice-bergs, the actual extent of the menace of Juvenile delinquency in our society is far deep-rooted and it has multifarious impacts. With these few words, let’s discuss the possible reasons behind the Juvenile delinquency.
a)    Family: In a study it has been established that the disturbed family relation between the parents, especially which results in divorce is a major cause for the Juvenile delinquency. It contributes around 13.3% of such delinquencies.

b)    Association: Teenage boys and girls prefer the friends circle to their family relations. It’s termed as Peer pressure. The influence a peer group encourages others to change their attitudes, values, or behaviors to conform to those of the influencing group or individual. Often the delinquencies and addiction towards drug and alcohols percolate to friends. This factor contributes to around 23 % of the cases of Juvenile delinquency.


c)    Neighbourhood: The place of upbringing of boys and girls contribute to a great extent to build up his mentality. Chance of becoming a Juvenile delinquent is directly proportional to the crime rate of the area. The more we witness crime in an area the more is the chance of a minor becoming a delinquent.

d)    Poverty: A major cause of the Juvenile delinquency in our society is poverty. It is estimated that more than 400,000 children live in street in India. Mainly because of poverty and family conflict, they come to live on the streets and take on the full responsibilities of caring for themselves, including working to provide for and protecting themselves. They miss basic amenities and observe the wealthy lifestyle of children from rich families. This discrimination acts as catalyst for children from poor families to become delinquents.


e)    Politics: A large section of politicians in our country are corrupt and involved in criminal activities. They maintain link with the underworld criminal gangs and mafias to run illegal business like running bootlegging, gambling, prostitution, beggary, etc. Often, they utilize the service of children for running their business and thereby to amass wealth. The children become addicted to vices and turn delinquents.

f)     Education: There is a very famous quotation of Swami Vivekananda, "Education is the manifestation of the perfection already in man". Education helps us to become a responsible citizen of country. At times, education also contributes towards the Juvenile delinquency. The IQ level of children varies according the phenomenon of Nature. But when a kid of low IQ level fares badly in the examination, often he or she gets scolding from parents and even torture. Statistics indicates that children with IQ level from 80 to 85 are vulnerable for becoming delinquent. A normal child has IQ around 100.


Conclusion: To conclude, we may consider the following steps for controlling the Juvenile delinquency:
1)    We should take care for grooming the personality of a teenage boy or a girl. He or she should get the required affection and social safety.
2)    As parents or guardian we should assess the IQ of the child and if any aberration is noticed he or she should be given with proper treatment. The early we do it, the less is the chance of his/her becoming delinquent.
3)    The children should get chance for participating in extracurricular activities like games and sports, music, dance, paintings, Yoga, etc.
4)    Efforts should be taken for offering our offspring with value based education to make them responsible citizens of our country.  
5)    We should debar delinquency not the delinquent.
6)    Confession of guilt perhaps checks a person from becoming hardcore. So, encourage your child to tell the truth even if he or she gets involved in any aberration.
7)    Try to give your child proper ambience in his childhood both at home and outside.
8)    Instead of concealing the delinquency which perhaps you have noticed in a teenage ensure his/her to undergo the corrective measures.
9)     Keep away the materials or means in the vicinity which may spoil your child.
10) Child-labour is curse for the entire nation. Children should not be deprived of their right to education.
11)  The best way for curing a Juvenile delinquent is entrusting him with some added responsibility like preventing other children from becoming prey to the menace of Juvenile delinquency.
       

It’s easier said than done, I shall conclude the write up with a story involving Tagore. One boy had access to visit to the house of Gurudev. One day he stole a pen of the poet.    To his friends who had similar access to remain in the vicinity of the great poet he told that Gurudev had gifted him the article. Being disheartened at the preference of Tagore, his friends couldn’t conceal their feelings. Taking the name of the boy one day, one of them said, ‘Gurudev, you have given him a pen. But, you never consider us fit for that!’

Tagore was very much surprised at this and he said, ‘So, it’s the reason, I am not finding the pen for last few days. He is also not stepping this side for last few days.’
At once his friends suggested, ‘Shall we bring him?’
The great poet said, ‘Not at all! Let his conscience rise to confess, otherwise he will become a hardcore criminal.’
We should be extremely temperament in dealing with the Juvenile delinquents.