Saturday, 29 August 2015

দাড়ির প্যাঁচ




তিনি ছিলেন এক অকৃতদার বিচক্ষণ রাজনৈতিক নেতা ৷ দীর্ঘ দিন বেঁচেছিলেন ৷ প্রশাসক হিসাবে সুনাম অর্জন করেছিলেন ৷ পদের বিচারেও অনেক শিখরে পৌঁছেছিলেন ৷ তাঁর প্রতিপক্ষরাও তাঁকে সমাদর করত ৷ আব্রাহাম লিঙ্কনের মত তিনি দাড়ি রাখতেন ৷ লিঙ্কন নাকি আমেরিকার রাষ্ট্রপতি পদে ভোটে দাঁড়াবার আগে একটি বাচ্চা মেয়ের পরামর্শে দাড়ি রেখেছিলেন ৷ মেয়েটি ভবিষ্যৎ বাণী করেছিল লিঙ্কন দাড়ি রাখলেই জয়ী হতে পারবেন ৷ ধর্মীয় কারণ ছাড়া একটি লোক যখন দাড়ি রাখে, আমি মনে মনে কারণ খুঁজার চেষ্টা করি ৷ এর হয়তো কোন সুনির্দিষ্ট উত্তর নেই ৷ তবে কেন জানি আমার মনে হয় প্রেমে দাগা খেলে ছেলেরা দাড়ি রাখে ৷ এই আঘাৎ কাটিয়ে উঠলে দাড়ি লোপ পায় ৷
তবে এই রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব হয়তো দাড়ি রাখতেন নিষ্কাম প্রেম থেকে ৷ নিষ্কাম প্রেমের বিষয়ে একটি গল্প আছে ৷ খানিকটা অশ্লীল ৷ তাই অনেকেই ইচ্ছে করলে এই অর্ধ-বিঘৎ প্যারাটি না পড়লেও পারেন ৷ অনেক অনেক দিন আগের কথা ৷ এক হরিজন মহিলা এক রাজবাড়িতে কাজ করতেন ৷ রোজ গিয়ে রানীর টয়লেট থেকে মলের বালতি নিয়ে আসতেন ৷ একদিন মহিলা অসুস্থ হয়ে পড়লেন ৷ সেদিন তাঁর বর গেল রাজবাড়িতে ৷ মলের বালতি নিয়ে আসতে ৷ ঘটনাচক্রে বেচারা যখন মলের বালতি পাল্টাতে গিয়েছে, তখন রানীমা প্রাকৃতিক কাজ সারছেন ৷ রানীর উন্মুক্ত পাছা দেখে সে কামার্ত হয়ে পড়ল ৷ তার মনে একই ভাবনা ৷ যার পাছা এত সুন্দর, তাঁর চেহাড়া না জানি কি সুন্দর ৷ এই চিন্তা থেকে সে নাওয়া-খাওয়া ছেড়ে দিল ৷ কোনো কাজও করে না ৷ সারাক্ষণ এই চিন্তাতেই তার মন কুরে কুরে খায় ৷ তার বৌ বেচারিও কিছু বুঝে উঠতে পারে না ৷ শেষ পর্যন্ত লোকটি পাগলপ্রায় হয়ে রাস্তার পাশে এক গাছতলায় বসে পড়ে ৷ আপন মনে হাসে ৷ ইচ্ছে হলে খায়, ঘুমায় ৷ গাছ তলাতেই ৷ লোকজন তার মধ্যে আধ্যাত্মিক লক্ষণ খুঁজে পায় ৷ লোকজনের, বিশেষ করে মহিলাদের ভিড় লেগে থাকে ৷ ফলমূল দিয়ে প্রণাম করে ৷ প্রথম দিকে সে তাকিয়ে দেখত কে এল ৷ এক সময় সে সেও ভুলে যায় ৷ একদিন রানীমাও আসেন ৷ অন্য দর্শনানার্থীদের মত ৷ পা ছুঁয়ে প্রণাম করেন ৷ সে তাকিয়েও দেখে না ৷ তার কামনা নিষ্কাম রূপ প্রাপ্তি করেছিল ৷
তাঁর কাছে তাঁর দাড়ি ছিল খুবই প্রিয় ৷ আর যারা তাঁকে কাছ থেকে দেখেছে তারা দাঁড়িতে হাত বুলানো দেখলেই তাঁর মনের অবস্থা বুঝতে পারত ৷ চিন্তাগ্রস্ত হলে তিনি তাঁর ডান হাত দিয়ে দাড়ি ঘড়ির কাঁটার বিপরীত দিকে ঘুরাতেন ৷ আর বা-হাত দিয়ে ঘড়ির সুই বরাবর দাড়ি মুচর দিলে বুঝতে হবে তিনি খুব রেগে আছেন ৷ কারো উপর খাঁড়া নেমে আসবে ৷ আর উপর থেকে দাড়ির ডগা পর্যন্ত মাটির সমান্তরালে হাত নেমে আসলে বুঝতে হবে খুশিতে ডগমগ অবস্থা ৷ এটা বিশ্বজনীন সত্য যে মানুষ খুব রেগে গেলে নিজের দাড়ি নিজে ছিঁড়ে ৷
প্রথমবার যখন তিনি ভোটে হেরে যান তখন তার এই মুড ছিল ৷ রঙ্গিন লুঙ্গি-পাজ্ঞাবী পরিহিত অবস্থায় তিনি দাড়ি ছিঁড়তে ছিঁড়তে গণনা কেন্দ্র থেকে বেরিয়ে আসেন ৷ তারপর একটি রিক্সাতে চেপে বাড়ির উদ্দেশে রওয়ানা হন ৷ রিক্সায় বসে তিনি শুধু একটি উক্তি করেছিলেন, ‘কুত্তার বাচ্চা জনগণ, বুঝলি না তো আপনজন ৷’
পরদিন সিকি-আধুলি নেতারা তাঁর বাড়িতে ভিড় করল ৷ তারা প্রত্যেকে হারের কারণ ব্যাখ্যা করছিল ৷ আর তিনি বা-হাত দিয়ে ঘড়ির  কাঁটা বরাবর দাড়িতে হাত বুলাচ্ছিলেন ৷ যতক্ষণ দলের নেতারা কথা বলল তিনি চুপচাপ ছিলেন ৷ ওদের কথা বলা শেষ হলে, ড্রয়ার থেকে একশো টাকা নোটের একটি বান্ডিল উপস্থিত একজন নেতাকে গুনতে দিলেন ৷ লোকটি প্রথমে একবার এক থেকে একশো পর্যন্ত একশটি নোট গুনল ৷ তখন জাতির জনকের ছবি নিচ দিকে ৷ বান্ডিলটি উল্টে আবার গুনল ৷ তখন মহাত্মা গান্ধীর ছবি উপর দিকে ৷ আবারো একশো হল ৷ তিনি এবার টাকার বান্ডিলটি নিয়ে যথাস্থানে রেখে দিলেন ৷ এবার যে লোকটি টাকা গুনছিল তাকে প্রশ্ন করলেন, ‘তুমি টাকা দুইবার গুনলে কেন ?’
-     নিশ্চিত বার জন্য ৷
-     যেখানে তোমার ডান-হাত বা-হাতকে বিশ্বাস করে না, আমি তোমাদের রিপোর্ট বিশ্বাস করব কেন ? কালা-ধলা যেই হওনা কেন আসতে পার ৷ আমি আমার হারের কারণ নিজে বের করব ৷


Friday, 28 August 2015

তুনে যো না কহা …




আমি ফেসবুকে যোগ দিয়েছি বছর পাঁচেক আগে ৷ আর গল্প লিখতে শুরু করেছি এঁরও বছর দুয়েক পর ৷ অদ্ভুত খেয়ালে ৷ প্রতিদিন পাঁচটি বাক্য লিখতাম ইংরেজিতে ৷ এদিয়েই মনের ভাব ব্যক্ত করার চেষ্টা করতাম ৷ অনেক সময় সজারু না হয়ে হাঁসজারু হয়ে যেত ৷  ফেসবুকে অনেক বিচিত্র বন্ধু পাওয়া যায় ৷ যারা সব-সময়ই উৎসাহ যোগীয়ে যায় I তবে প্রথম গঠনমূলক পরামর্শ যোগায় আমার অভিন্ন-হৃদয় বন্ধু মানস পাল ৷ মানস আমাকে পাঁচ-বাক্যের সীমা ডিঙ্গিয়ে লিখতে বলে ৷ তার কথায় মনের ভাব অব্যক্ত রাখা উচিত নয় ৷ আমি তার কথা মেনে নেই ৷ তারপর থেকে প্রতিদিন কিছু না কিছু লিখতাম ৷ এর অনেকগুলি লেখা ২০১৩ সালে চেন্নাই থেকে প্রকাশিত আমার ‘I Adore’ বইয়ে স্থান পেয়েছে ৷
এই পর্যায়ে একটি অবাঙ্গালী বন্ধুর সাথে মিতালি হয়েছিল ৷ সে প্রায়ই অন-লাইন চ্যাটিং করত ৷ আমার লেখার উপর মন্তব্য করত ৷ আমার আবার অন-লাইন চ্যাটিংয়ের ধৈর্য নেই ৷  ওকে এড়ানোর জন্য একদিন বললাম তুমি একটা লাইন দাও ৷ আমি গল্প লিখে পোস্ট করব ৷ সে লিখল, ‘তুনে যো না কহা ম্যাঁয় ও শুনতে রহা…’
      আমি হিন্দিতে দুর্বল ৷ আমি প্রথমে কলিটির বাংলায় ভাব-সম্প্রসারণের চেষ্টা করলাম ৷  আমার স্বভাবানুযায়ী রবিঠাকুরের স্মরণ নিলাম ৷ কবিগুরুর একটি গান মনে এল : ‘অনেক কথা যাও যে বলে কোনো কথা না বলি.তোমার ভাষা বোঝার আশা দিয়েছি জলাঞ্জলি
      হঠাৎ আমার একটি ঘটনা মনে এল ৷ প্রায় তিন দশক আগের ৷ আমি তখন শিক্ষকতার পেশায় ৷ আমার পোস্টিং কমলপুরে ৷ আমবাসার তুলনায় কমলপুরকে দণ্ডকারণ্য মনে হত ৷ আমবাসা যেন পঞ্চবটী ৷ সেখান থেকে সব জায়গার গাড়ি পাওয়া যায় ৷ সন্ধ্যার পর আমবাসা-কমলপুরের মধ্যে গাড়ি পাওয়া যেত না ৷ আমরা ‘সম্রাট ও সুন্দরী নামে একটি বাস চরতাম ৷ বাসটির নাম্বার এখনো আমার মনে আছে ৷ টি.আর.এস.-৫৮৫ ৷ সবসময়ই বাদুর ঝুলা অবস্থা ৷ অনেক গ্রীষ্মের সন্ধ্যায় এই প্রাণান্তকর অবস্থা এড়াতে গাড়ির ছাদে চলে যেতাম ৷ জয়-রাইডের জন্য ৷ 
তখন শীতকাল ৷ ধর্মনগর কিংবা আগরতলা থেকে ফিরছিলাম ৷ সঠিক মনে নেই ৷ আমবাসায় পৌঁছলাম বিকেলের বেশ আগেই ৷ ‘সম্রাট ও সুন্দরী তখন ফাঁকা ৷ জানালার পাশের একটি সিট দখল করে জুতসই করে বসলাম ৷ পাশের সিটটিতে আমার হাত-ব্যাগটি রাখলাম ৷ পরিচিত কাউকে পেলে বসতে দেব ৷ শীতের সময় সন্ধ্যা তাড়াতাড়ি নেমে আসে ৷ সন্ধ্যা নামার সাথে সাথেই লক্ষ্য করলাম বাস একদম পরিপূর্ণ ৷ তখনো আমি এক্সট্রা সিটটি দখল করে রেখেছি ৷ হঠাৎ আমার নজর গেল কৃষ্ণকায় এক সুন্দরীর দিকে ৷ বয়স বুঝি-বা বিশের কোঠায় ৷ হালকা সবুজ পোশাক ও বেশ ৷ তাকে অপরূপ দেখাচ্ছিল ৷ সেদিন তার সামনে সম্ভবত: সেদিন বিপাশা বসুকেও ফিকে দেখাত ৷
আমি ‘চক্ষে আমার তৃষ্ণা, ওগো তৃষ্ণা…’, ছেড়ে আমি মনে মনে, ‘মম মন-উপবনে চলে অভিসারে …’, ধরেছি ৷ সে ভিড় ঠেলে গাড়িতে উঠার চেষ্টা করছিল ৷ আর আমি প্রস্তুতি নিচ্ছিলাম কিভাবে তাকে পাশের সিটটি অফার করব ৷ কিন্তু সেটা ঘটল না ৷ কারণ তার মাতৃভাষা ৷ মেয়েটি হঠাৎ বলে উঠল, হরনছাই দেখি…’
আমিও সিলেটী ৷ তবে এই বয়সের কোনো মেয়ের মুখে এই বুলি আশা করি নি ৷ আমি পাশে দাঁড়ানো লোকটিকে বললাম, ‘আপনি এই সিটটিতে বসতে পারেন ৷ মনে হচ্ছে আমার বন্ধু আজ সম্রাট ধরতে পারবে না ৷আর মনে মনে বললাম রবিঠাকুরকে একবার পেলে বলব, ‘প্রাণ চায় চক্ষু না চায়…’,আরবি নিয়মে উল্টো করে লিখার জন্য ৷ তবে সবকিছুরই একটি পজিটিভ দিক থাকে ৷ এই গল্প পোস্টিং করার পর আমার সেই বন্ধুটি আর চ্যাটিংয়ের প্রয়াস নেয় নি ৷

  

বিঘৎ




    স্যার আইজ্যাক নিউটনের একটি আক্ষেপ ছিল তিনি মহা-জাগতিক বস্তুর গতি মাপতে পারেন কিন্তু মানুষের পাগলামো মাপতে পারেন না দিন কয়েক আগে এক সহকর্মীর মুখে একটি গল্প শুনে মহা বিজ্ঞানীর উপলব্ধিটি মনে এসেছিল গল্পটি এক খ্যাপাটে বাস্তুকারকে নিয়ে রজত-বাবু এখন অবসরে তিনি রাজ্যের একমাত্র কারিগরি কলেজ থেকে স্নাতক হন তবে রজত পদক নয় স্বর্ণপদকই পেয়েছিলেন ম্যাকানিক্যাল ডিসিপ্লিনে তারপর তিনি একটি সরকারী দপ্তরে চাকুরীতে যোগ দেন আর দিয়েই পাগলামোর কারণে সরকারী গ্যাঁড়াকলে জড়িয়ে পড়লেন তাঁর বাসায় বেশ কিছু পাত পড়ে মাসে প্রায় একমন চাল লাগে একদিন তিনি চালের দর আহ্বান করে পত্রিকায় বিজ্ঞাপন দিলেন দপ্তরের খরচে তা দেখে অফিসের সবাই আড়ালে হাসাহাসি শুরু করল এই খবর দপ্তরের কর্তার কানেও গেল অধিকর্তা সর্বভারতীয় সেবার অফিসার দাক্ষিণাত্যের লোক কড়া ধাতের অফিসার রজত-বাবু কারণ দর্শানোর নোটিশ পেলেন শেষমেশ বিজ্ঞাপনের খরচ কড়ায় গণ্ডায় মিটিয়ে রেহাই পেলেন

      
এই ঘটনার পর অফিসে রজত-বাবুর দায়িত্ব ছেঁটে দেওয়া হল তাঁকে ছোট একটি রুম দিয়ে কার্যত বসিয়ে রাখা হল তাঁর আশেপাশে যারা বসত তারাও একেকজন কলাকার ছিল সে যাক, এরপর থেকে রজত-বাবুর চিঠিপত্র বড় সাহেবের নজর এড়িয়ে যেতে পারত না তখন ত্রিপুরায় সবেমাত্র চটকল চালু হয়েছে নেই কাজ তো খই ভাজ রজত-বাবু ঠিক খই ভাজলেন না তিনি তাঁর কারিগরি বিদ্যার প্রয়োগের মধ্য দিয়ে একটি বৃহৎ চিঠি প্রস্তুত করলেন মাননীয় মুখ্যমন্ত্রীর বরাবরে তাঁর মুক্তোর মত হস্তাক্ষরে চিঠিতে তিনি উল্লেখ করেছিলেন কাঁচামালের অভাবে চটকলটি কতদিনের মাথায় লাটে উঠবে তাঁর কথায় কাঁচামাল ছাড়াও চটকল স্থাপনের জন্য কাছাকাছি নদী কিংবা জলাধারের দরকার হয় তিনি অংকের মাধ্যমে বুঝাতে চেষ্টা করেছিলেন সরকারের মিল চালানোর চেয়ে শ্রমিকদের মাসে মাসে বেতন দেওয়া লাভজনক অধিকর্তার হাতে এই চিঠি পৌছার পর কয়েকবার করে পড়লেন চিঠিটি তাঁর কাছে তেতো লাগল কিন্তু রজত-বাবুর কথার খণ্ডন করার মত যুক্তি তাঁর মাথায় এলো না একটি নকল ডেসপাস্ নাম্বার লাগিয়ে রজত-বাবুকে আশ্বস্থ করা হল তাঁর চিঠি যথাযথ ঠিকানায় পৌঁছে গেছে

     
এডগার এলেন পো এক জায়গায় প্রশ্ন করেছেন, ‘প্রচ্ছন্ন পাগলামোর মধ্য দিয়েই কি মানুষের বুদ্ধিমত্তার প্রকাশ পায় ?’

      
আমাদের উত্তর জেলার এক হাতুড়ে ডাক্তার সম্প্রতি মারা গিয়েছেন তিনি একবার রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে দাঁড়িয়েছিলেন নিলম সঞ্জীব রেড্ডির বিরুদ্ধে তখন জন-প্রতিনিধিত্ত্ব আইনের এত কড়াকড়ি ছিল না সেই থেকে তাঁর নাম পড়ে গিয়েছিলরাষ্ট্রপতি একবার কর্কট রোগে আক্রান্ত এক রোগীকে একটি বড় হাসপাতাল থেকে ফিরিয়ে দিয়েছিল বাঁচার আশা নেই বলে মৃত্যুপথযাত্রী সেই রোগীকে আত্মীয় স্বজনেরা নিয়ে এসেছিলরাষ্ট্রপতি’- কাছে রাষ্ট্রপতিকি ঔষধ দিয়েছিলেন কেউ জানে না তবে রোগী মুহূর্তের জন্য উঠে বসেছিল পর মুহূর্তেই মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়ে অনেকে বলেরাষ্ট্রপতি’- ঔষধে ধানি-লংকার গুড়ো ছিল সে নিয়ে রাষ্ট্রপতিকে অনেক ভুগতে হয়েছিল কোর্ট-কাছারিও হয়েছিল সে যাকরাষ্ট্রপতিতাঁর আসল কৃতিত্ব রেখে গেছেন স্থাপত্য শৈলীতে তিনি পাঁচতলা এক ইমারত বানিয়েছিলেন তবে এরমধ্যে নতুনত্ব ছিল ইস্পাতের রডের পরিবর্তে ব্যবহৃত হয়েছে এক ধরনের বাঁশ শুনেছি বিল্ডিংটি দু`তিন দশক অবধি দিব্যি টিকে আছে
আবার অ্যারিস্টটলের কথা মানলে যেকোনো বিস্ময় প্রতিভার মধ্যে একটু-আধটু পাগলামো থাকে আর নির্বাচন এলেই আমরা যেন ` সত্যটি দেখতে পাই অনেক ক্ষ্যাপা লোক নির্দল প্রার্থী হিসাবে ভোটে দাঁড়ান ভোট গনণার আগের দিন পর্যন্ত তাঁরা নিশ্চিন্ত থাকেন জয়ী হবেন বলে এই ক্ষ্যাপাদের ভিড়ে আমাদের এক বিজ্ঞানের শিক্ষককে একবার দেখে খুব আনন্দ পেয়েছিলাম স্যার আবার বাইসেপস্-ট্রাইসেপস্ দেখাতে ভালোবাসেন বিয়েথা করেন নি তবে সোনামণি বৈরাগীর পাগলামো সবকিছু ছাপিয়ে গিয়েছিল তখন আমি কলেজে পড়ি লোকসভার নির্বাচন ভোটের আগে বাড়িতে গিয়ে দেখি মহা ধুমধামে প্রচার চলছে সোনামণি সরকার, সংগ্রামের হাতিয়া ঘটি চিহ্নে ভোট দিন

      
আসল মজা জমা ছিল ভোটের দিনের জন্য সোনামণি বৈরাগী নিজের ভোট দিতে গিয়ে ঝামেলায় জড়িয়ে পড়লেন তাঁর সাথে বৈরাগীর ঘটি সেটি যেহেতু নির্বাচনী প্রতীক প্রিসাইডিং অফিসার বাঁধা দিলেন তিনি প্রিসাইডিং অফিসারকে বললেন, ‘হাতও তো কংগ্রেসর সিম্বল আপনে আপনার হাত কাটি লাইন
অকাট্য যুক্তি শেষ পর্যন্ত যতদূর জানি সোনামণি বৈরাগী তাঁর প্রতীক সহ বুথে ঢুকেছিলেন

      
পাগলদের লিখতে গিয়ে রাঁচির পাগলা গারদ সম্বন্ধে না লিখলে রচনা খেলো হয়ে যাবে স্বাধীনতার পরের কথা ভারতের প্রথম প্রধানমন্ত্রী গেয়েছেন রাঁচিতে তাঁকে নিয়ে যাওয়া হল পাগলা-গারদ পরিদর্শনে একজন সভ্য-ভব্য দেখে আবাসিককে নিজের পরিচয় দিয়ে নেহেরু বললেন, ‘কেমন আছেন ?’

      
আবাসিক বললেন, ‘প্রথম প্রথম সবাই নিজেকে প্রধানমন্ত্রী, রাষ্ট্রপতি বলে পরিচয় দেয় কয়েকদিন থাকুন তাপর বুঝবেন কত ধানে কত চাল ?’

       
স্বাধীনতা দিবসের প্রাক্কালে রাষ্ট্রপতি ভালো ব্যবহারের জন্য কয়েদিদের সাজা কিছুটা মুকুব করেন রাঁচির পাগলা গারদে লেখক, শিল্পী, শ্রমিক, কৃষক, শিক্ষক, প্রভৃতি বিভিন্ন পেশার লোক আছেন পাগলা গারদ থেকেও দরখাস্ত পড়ল
একজন পাগল লেখক মুখ্য ভূমিকা নিলো সেই তার এবং তার বন্ধুর দরখাস্ত লিখল তারপর পাঠিয়ে দিল রাষ্ট্রপতির বরাবরে রাষ্ট্রপতি আদেশ করলেন তাদের মানসিক স্বাস্থ্য পরীক্ষা করে রিপোর্ট দেওয়ার জন্য রিপোর্ট পাওয়ার পর রাষ্ট্রপতি তাদের মুকুবের আদেশ দিলেন তখন তাদের বেশ ‘PK’ সিনেমায় আমির খানের এন্ট্রির মত তারা দুজনেই প্রায় দিগম্বর লেখকের বন্ধু ইতস্তত: করছিল এই অবস্থায় বেরুতে তখন লেখক বলল, ‘PK-তে দেখনি ড্যান্সিং কার থেকে পোশাক পাওয়া যায় আমরা ম্যানেজ করে নেব চল প্রথমে বেরুই এই কয়েদ থেকে

      
এরপর আর কথা হয় না তারা বেরিয়ে পড়ল পাগলা গারদ থেকে বেরিয়েই পড়ল এক সুন্দরী তন্বীর সামনে বন্ধুর এক পাও চলে না সখার এই অবস্থা দেখে নিজর পরিধানের কৌপীনটুকু লেখক দিয়ে দিল পরবর্তী মুহূর্তে পাগলা গারদের সেপাইরা লেখককে পাকড়াও করল তার বন্ধু বিচ্ছেদ ঘটল

       
পাগলের গল্প শেষ হয়েও শেষ তে চায় না ক্লাস সেভেন-এইটে পড়ার সময় আমরা বীর বিক্রম ইন্সটিটিউশন, ধর্মনগরের ছেলেরা মজাদার এক শিক্ষককে পেয়েছিলাম স্যার এখন গত হয়েছেন তিনি ইতিহাস পড়াতেন তাঁকে সবাইবিঘৎনামেই জানত কারণ স্যার প্রশ্নের উত্তরে হাতের বিঘা দিয়ে দৈর্ঘ্য মেপে নাম্বার দিতেন আমরা শুরুটা এবং শেষটা ঠিক লিখে বাঁকি অংশে যা-কিছু গাল-গল্প লিখে দিতাম দিব্যি পাশও করে ফেলতাম কিন্তু সেই অভ্যাস এখনো রয়ে গেছে এই গল্পবিঘৎএর ফসল