Monday, 20 April 2015

লাভ কোথায় গেল?’

লাভ কোথায় গেল?’

         জি-বাংলার দাদাগিরি অনুষ্ঠান আজকাল আমি খুব উপভোগ করি৷সোম থেকে বুধ এই তিন দিন ক্লান্তিতে ঘুমিয়ে না পড়লে অবশ্যই প্রোগ্রামটি দেখতে ভুলি না ৷মাঝে বিজ্ঞাপনের সময় আই পি এলের ম্যাচ দেখি ৷সৌরভ গাঙ্গুলীর অ্যাঙ্করশিপে প্রোগ্রামটি অন্য মাত্রা বয়ে নিয়ে এসেছে ৷আমি সবসময় অবাক হই দাদা কি করে দর্শকদের কঠিন কঠিন গুগলি গুলির উত্তর অবলীলায় দিয়ে দেন ৷আমি আজ অবধি দাদাকে উত্তর দিতে ব্যর্থ হতে দেখিনি ৷এটা যেহেতু একটি রেকর্ডেড প্রোগ্রাম অনেক সময় ভাবি দাদা যে গুগলি গুলোর উত্তর দিতে পারেন না সেগুলি নিশ্চয়ই ইডিট করে বাদ দেওয়া হয়

         যতদূর জানি ডান-হাতি লেগ-স্পিন বোলাররাই গুগলি বল করে থাকেন ৷সাধারণত লেগ-স্পিনারদের বল পিচের বা-দিকে পড়ে অফের দিকে বাঁক নেয় ৷কিন্তু গুগলির ক্ষেত্রে বল লেগের দিকে বাঁক নেয় ৷এই ধরনের বলের ইমপ্যাক্ট অফ-স্পিন বল থেকে সম্পূর্ণ ভিন্ন ৷গুগলি লেগ-স্পিনারদের একটি মুখ্য অস্ত্র৷ছোটবেলায় আমাদের এক সহপাঠী গুগলি বল করতে পারত বলে বড়াই করত৷তাই তার নাম পড়ে গিয়েছিল গুগলি ৷গুগলি এখন বাস্তুকার
গুগলি শব্দটি দাদাকে এভাবে ব্যবহার করতে দেখে প্রভূত আনন্দ পেয়েছি ৷গুগলি বা ধাঁধার আমাদের গ্রাম বাংলায়ও খুবই প্রসিদ্ধ ৷ছোটবেলা থেকেই আমারা গুগলির সাথে পরিচিত 'শুভঙ্করের ফাকি তিন'' থেকে এক'' গেলে কয়'' থাকে বাকি?' উত্তর হচ্ছে দুই'', '' এবং ''৷বাংলা বর্ণমালায় তিন'' আছে, '', '' এবং '' ৷এর থেকে '' চলে গেলে এই উত্তরই আসে ৷এমনই আরেকটি গুগলি ছোটবেলার কথা, নয় লক্ষ তেঁতুল গাছের কয় লক্ষ পাতা?’, তেতুল গাছের ছোটবেলায় বিচি থেকে যখন চারা গজায় তখন দুটো পাতা থাকে ৷তাই এই গুগলির উত্তর হচ্ছে আঠার লক্ষ পাতা
       এমনি আরও গুগলির গোলক ধাঁধা অতিক্রম করে আমরা বড় হই৷সংসারী হই ৷প্রতিটি সংসারে আপনিই অর্থমন্ত্রী ৷না, ভুল বললাম আমার মত পুরুষরা যারা বাজারে গিয়ে ঠকে আসে তারা অর্থমন্ত্রীত্ত্বের দায়িত্ব স্ত্রীদের কাছে দিয়েই খুশি থাকে ৷বেশী ঠকে গেলে বাড়িতে এসে কিছু কম করে রেইট বলে দিয়ে পার পেয়ে যাই ৷তাছাড়া এখন টি এম ফ্যাসিলিটি থাকায় সুবিধা হয়েছে
সে যাক অর্থনীতি সংক্রান্ত একটি গুগলির উত্তর ছোটবেলা থেকে আমার অজানা৷ছোটবেলায় আমি খুব রসগোল্লা খেতে ভালবাসতাম ৷তখন রসগোল্লার দাম ছিল পঁচিশ পয়সা ৷আমি আমার দাদা যে আমার চেয়ে তিন বছরের বড় বাবার কাছে পড়তাম ৷বাবা বিজ্ঞানের শিক্ষক ৷রসগোল্লার জন্য বায়না ধরলে বলতেন, ‘ধর তোকে আর তোর দাদাকে মিষ্টির দোকান খোলার পুঁজি দিলাম ৷তা দিয়ে তোরা দুই ভাই দোকান খুললি ৷কারিগর দিয়ে দুজনেই সমান সমান সংখ্যায় রসগোল্লা বানালি ৷এতসবের পর (আমি দাদার চেয়ে ভালো বাজার করতে পারতাম)তোর কাছে অবশিষ্ট রইল পঁচিশ পয়সা ৷তোর দাদার কাছে কোনও পয়সা নেই ৷এদিকে সারাদিন বসার পরও তোদের দোকানে কোনও খরিদ্দার এলো না৷বিকেল বেলা খিদের তাড়নায় তুই তোর পঁচিশ পয়সা দিয়ে দাদার দোকান থেকে একটি রসগোল্লা কিনলি ৷সেই পয়সা দিয়ে তোর দাদা তোর দোকান থেকে একটি রসগোল্লা কিনল ৷আবার তুই গেলি দাদার দোকানে ৷এক সময় দেখা গেল তোদের দুজনের দোকানের রসগোল্লাই শেষ হয়ে গেছে আর তোর কাছে পড়ে আছে পঁচিশ পয়সা ৷প্রশ্ন লাভ কোথায় গেল?’

    এই প্রশ্নের উত্তর দিতে পারতাম না ৷তাই বায়না করেও লাভ হতনা